ওয়েট চার্জযুক্ত (ইলেকট্রোলাইট ব্যতীত)

  • ১.২৮৩ স্পেসিফিক গ্রাভিটি বিশিষ্ট ইলেকট্রোলাইট (সালফিউরিক এসিড) ব্যাটারির সঠিক লেভেল বরাবর পরিমাণমত পূর্ণ করে চার্জে বসাতে হবে।
  • এরপর ৮-১০ ঘন্টা একটানা চার্জ দিতে হবে।
  • চার্জ শেষে ব্যাটারি ঠান্ডা (স্বাভাবিক তাপমাত্রা) হলে গাড়ি চালান শুরু করতে হবে।
  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই ব্যাটারি প্রথম কিছদিন (১০-১৫ দিন) সম্পূর্ণ চার্জ শেষ না করে বরং ৪০-৮০ কিলোমিটার চালিয়ে পুনরায় চার্জে বসাতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত চার্জ না হয়। এতে ব্যাটারির মাইলেজ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ওয়েট চার্জযুক্ত (ইলেকট্রোলাইট সহ)

  • প্রথমে ৮-১০ ঘন্টা একটানা চার্জ দিতে হবে।
  • এরপর ১২ ঘন্টা চার্জের পর ২ ঘন্টা বিরতি দিয়ে ঠান্ডা করে পুনরায় ১২ ঘন্টা চার্জ করতে হবে। এভাবে মোট ৩৬ ঘন্টা চার্জ দিতে হবে। একটানা চার্জ দেয়া যাবে না।
  • চার্জ শেষে ব্যাটারি ঠান্ডা (স্বাভাবিক তাপমাত্রা) হলে গাড়ি চালান শুরু করতে হবে।
  • অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এই ব্যাটারি প্রথম কিছদিন (১০-১৫ দিন) সম্পূর্ণ চার্জ শেষ না করে বরং ৪০-৮০ কিলোমিটার চালিয়ে পুনরায় চার্জে বসাতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত চার্জ না হয়। এতে ব্যাটারির মাইলেজ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ইজি বাইক ব্যাটারির সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে করণীয়

ইলেক্ট্রোলাইট প্রদান

প্রথমবারের মতো ওয়েট ব্যাটারিতে ইলেকট্রোলাইট (১.২৮৩ গ্রাভিটির এসিড) দেয়ার পর ১-২ ঘণ্টা চার্জ ব্যাতীত রেস্টে রাখতে হবে।

ব্যাটারির বিশ্রাম

ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার পরে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা রেস্টে রাখুন।

সঠিক ক্যাবল ব্যবহার

২২০ এসি ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎস থেকে ২২০ এসি ভোল্ট সাপ্লাই দেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যাবল/তার ব্যাবহার করে ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ফুল চার্জ হবে না। চার্জের পর নিয়মিত এসিড পানির গ্রাভিটি পরীক্ষা করতে হবে। এসিড পানির গ্রাভিটি যেন ১২৯০ এর উপর না উঠে।

চার্জের মাত্রা

  • গাড়ির সাথে দেয়া চার্জার দিয়ে-
  • ওয়েট ড্রাই চার্জযুক্ত (ইলেকট্রোলাইট ব্যতীত) ইভি ব্যাটারি ১২ ঘন্টা চার্জ দিয়ে ২ ঘন্টা বিরতির পর ঠান্ডা করে পুনরায় ১২ ঘন্টা চার্জ করতে হবে। এভাবে মোট ৩৬ ঘন্টা চার্জ দিতে হবে।
  • ওয়েট চার্জযুক্ত (ইলেকট্রোলাইট সহ) ইভি ব্যাটারি ৮-১০ ঘন্টা একটানা চার্জ দিতে হবে। ইলেকট্রোলাইট ব্যতীত হলে সালফিউরিক এসিড পূর্ণ করে চার্জে বসাতে হবে।
  • এবং কোন অবস্থাতেই ব্যাটারির বডিতে দেয়া লেয়ার দাগের উপরে বা নীচে এসিড পানি রাখা যাবে না। কারন উক্ত দাগের উপর এসিড পানি দেয়া থাকলে সম্পূর্ণ চার্জ হবে না এবং নিচে থাকলে ব্যাটারি পুড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন কর্ক/ছিপি খুলে এসিড পানি দেখে নিতে এবং প্রয়োজন মতো ডিস্টিড ওয়াটার (বিশুদ্ধ পানি) ব্যাবহার করে উক্ত দাগের সমান চার্জ করতে হবে।

কানেকশন পরীক্ষা

ব্যাটারির পজিটিভ বা নেগেটিভ কালেকশন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে শক্ত করে সংযোগ প্রদান করুন যাতে কোনো অবস্থাতেই কলকশন লুজ না হয়।

উপরের দিক উন্মুক্ত রাখুন

ব্যাটারির উপরের অংশে কোনো অবস্থাতেই রাবারের সিট, কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দেয়া যাবে না।

ব্যাটারি পরিষ্কার রাখুন

ব্যাটারির উপরিভাগ সর্বদা শুকনো এবং পরিষ্কার রাখতে হবে। সিগারেট, মমবাতি, অগ্নিশিখা অথবা ফুলিঙ্গ ব্যাটারি বিষ্ফোরণের কারণ হতে পারে। ব্যাটারির পানির লেভেল দেখার সময় টর্চ ব্যবহার করা উচিৎ। কিছুদিন পরপর টার্মিনাল পোষ্টে ভ্যাসলিন লাগাতে হয়। এতে সালফার জমতে পারবে না।

বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার

ব্যাটারি থেকে ভালো সার্ভিস পেতে অবশ্যই ডিষ্টিল্ড ওয়াটার (বিশুদ্ধ পানি) ব্যবহার করুন এবং কোনো অবস্থাতেই পুনরায় ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড পানি) ব্যবহার করা যাবে না। এর প্রয়োজন হলে অবশ্যই ব্যাটারি এক্সপার্ট এর সহায়তা নিন।

ব্যাটারির চার্জ পরীক্ষা

ব্যাটারির চার্জ পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত যন্ত্র বা মিটার ব্যতীত টার্মিনাল শর্ট সার্কিট বা ফায়ার দেয়া যাবেনা। এর ফলে নতুন ব্যাটারিও নষ্ট হতে পারে।

গাড়ির যন্ত্রাংশ পরীক্ষা

প্রতিদিন গাড়ি চালানোর পূর্বে গাড়ীর চাকা ও মটরের বিয়ারিং ঠিক মতো ঘুরছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। জ্যাম হয়ে থাকা বিয়ারিং মোটর  ব্যাটারি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ।

  • ব্যাটারীর পজিটিভ বা নেগেটিভ কানেকশন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়ে শক্ত করে সংযোগ প্রদান করুন যাতে কোন অবস্থাতেই সংযোগ লুজ না হয়।
  • যথেষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাবল/তার ব্যবহার করে চার্জের ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যাটারি ফুল চার্জ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চার্জ শেষে নিয়মিত ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড) এর স্পেসিফিক গ্রাভিটি চেক করতে হবে। মনে রাখতে হবে ব্যাটারি ফুল চার্জ হলে অবশ্যই গ্র্যাভিটি ১.২৮০ বা বেশি হবে।
  • ব্যাটারির ভেন্ট প্লাগ দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত করতে হবে যেন ঝাকুনিতে ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড) বের হতে না পারে। প্রতিবার চার্জ শেষ হওয়ার পর ব্যাটারি ঠান্ডা (স্বাভাবিক তাপমাত্রা) হলে তারপর গাড়ি চালানো শুরু করতে হবে।
  • কয়েক দিন অন্তর অন্তর ব্যাটারির ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড) লেভেল চেক করতে হবে।
  • যদি লেয়ার লেভেল চিহ্নিত দাগের নিচে নেমে যায় তবে প্রত্যেক সেলে পরিমানমতো ডিমিনারেলাইজড ওয়াটার ব্যবহার করে আপার লেভেল পর্যন্ত পূর্ণ করতে হবে।
  • খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনভাবেই টিউবওয়েল বা সাপ্লাই পানি ব্যবহার করা না হয়।
  • ব্যাটারীর উপরের অংশে কোন অবস্থাতেই রাবারের সিট, কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে ঢেকে দেয়া যাবেনা।। ব্যাটারির উপরিভাগ সর্বদা শুকনো এবং পরিষ্কার রাখতে হবে। সিগারেট, মোমবাতি, অগ্নিশিখা অথবা স্পার্ক ব্যাটারী বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে।
  • প্রতিদিন গাড়ি চালানোর পূর্বে গাড়ির চাকা ও বিয়ারিং ঠিক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। জ্যাম হয়ে থাকা বিয়ারিং বা চাকা মাইলেজ কম হওয়ার অন্যতম কারণ।
  • কোনভাবেই ব্যাটারি অতিরিক্ত চার্জ বা ডিসচার্জ করা যাবেনা এতে করে ব্যাটারির স্থায়িত্ব হ্রাস পায়।।
  • গাড়ি ও ব্যাটারির ক্ষমতার অতিরিক্ত লোড বহন করা যাবেনা। এতে করে ব্যাটারির স্থায়িত্ব হ্রাস পায়।
  • মাঝেমধ্যে ব্যাটারির টার্মিনাল পোস্টে গ্রিজ বা পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে মেখে নিতে হবে যাতে অতিরিক্ত সালফেট না জমে।
  • অব্যবহৃত অবস্থায় দীর্ঘদিন ব্যাটারি ফেলে রাখা যাবেনা। এতে করে ব্যাটারি অকেজো হয়ে যেতে পারে।
  • ব্যাটারিতে শুধুমাত্র ডিমিনারেলাইজড ওয়াটার বা ডিস্টিলড ওয়াটার (বিশুদ্ধ পানি) ব্যবহার করুন।
  • ব্যাটারির ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড) স্তর ঘন ঘন পরীক্ষা করা উচিত। যদি পানির স্তরটি নিচের দাগের নিচে চলে যায় তাহলে প্রতিটি দাগ অবশ্যই উপরের স্তর পর্যন্ত পূরণ করতে হবে।
  • ব্যাটারিতে অতিরিক্ত পানি ভরা থেকে বিরত থাকুন, নয়তো ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে।
  • যদি ব্যাটারির টার্মিনালগুলোতে কোনো সাদা কিছু দেখা যায় তাহলে খেয়াল রাখতে হবে ভেন্ট প্লাগগুলো শক্তভাবে আঁকড়ে আছে কিনা। এটি পরিষ্কার করতে পানিতে বেকিং সোডা এবং টুথব্রাশ ভিজিয়ে নিন। সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে টার্মিনাল, বোল্ট এবং তারের সংযোগকারীর চারপাশে পাতলা করে পেট্রোলিয়াম জেলি মিশিয়ে নিন।
  • ব্যাটারির ইলেক্ট্রোলাইট (এসিড) এর লিকেজের দিকে নজর রাখুন।
  • অনুগ্রহ করে টার্মিনালে কোনো জং বা মরিচা এবং ব্যাটারি সংযোগকারী সব ক্যাবল/তার ঠিক আছে কিনা খেয়াল রাখুন।
  • আপনার ব্যাটারিতে নিয়মিত চার্জ দিন তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত চার্জের ফলে ব্যাটারি নষ্ট হতে পারে।
  • ব্যাটারির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত চার্জিং এর সমস্যা এড়াতে, ভালোমানের চার্জার ব্যবহার করুন যেন চার্জিং এর পর নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়।
  • অনুগ্রহ করে সারাদিন ব্যবহারের পরে ব্যাটারি চার্জ দিন, এতে ব্যাটারির পারফর্মেন্স আরও ভাল হয়।